দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই দলগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ করেছে ফিফা একগুচ্ছ চমকপ্রদ পরিসংখ্যান। গোল, বল দখল আর পাসিংয়ের পাশাপাশি এবার উঠে এসেছে সবচেয়ে বেশি দৌড়ানোর হিসাবও। সেই তালিকায় সবার ওপরে আছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র-মাউরিসিও পোচেত্তিনোর দল তিন ম্যাচে দৌড়েছে মোট ১১৯.৫৪ কিলোমিটার, যা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি (১১৮.৮৫ কিলোমিটার)। এরপর রয়েছে তুরস্ক (১১৬.৯৪), নরওয়ে (১১৬.৬৮) ও নিউজিল্যান্ড (১১৬.৩৫)। শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়া বাকিরা হলো- চেক প্রজাতন্ত্র, স্কটল্যান্ড, জর্ডান, মিশর ও অস্ট্রেলিয়া।
দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দু’দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অবস্থান অবশ্য একেবারেই ভিন্ন। ব্রাজিল ১১২.৬৬ কিলোমিটার দৌড়ে ২১তম স্থানে থাকলেও আর্জেন্টিনা রয়েছে ৪৪তম স্থানে। লিওনেল স্কালোনির দলের মোট দৌড় ১০৬.২২ কিলোমিটার। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার চেয়ে কম দূরত্ব অতিক্রম করেছে মাত্র চারটি দল- নেদারল্যান্ডস, কুরাসাও, কলম্বিয়া ও কাতার।
তবে কম দৌড়ানো মানেই কম কার্যকর এমন ধারণার সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবল দর্শনের মিল নেই। স্কালোনির দল বরাবরই বল দখলে রেখে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণ গড়ে তুলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। প্রয়োজন ছাড়া অযথা দৌড়ানোর বদলে তারা বলকে দ্রুত এক খেলোয়াড় থেকে আরেক খেলোয়াড়ের কাছে পৌঁছে দেয়। সুযোগ মিললে পাল্টা আক্রমণেও সমান ধারালো হয়ে ওঠে দলটি।
এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি। তাকে ঘিরে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পলের মতো পরিশ্রমী ও সৃজনশীল মিডফিল্ডাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। প্রয়োজনে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, জিওভানি লো সেলসো কিংবা এক্সেকুয়েল পালাসিওসও একই ছন্দ বজায় রাখেন। স্কালোনির দলের দর্শন যেন একটাই খেলোয়াড় নয়, বলই বেশি দৌড়াবে।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বল দখলের পরিসংখ্যানও সেই চিত্রই তুলে ধরে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তারা বল দখলে পিছিয়ে ছিল (৪৮ শতাংশ), যেখানে প্রতিপক্ষের দখল ছিল ৫২ শতাংশ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আবার আর্জেন্টিনা এগিয়ে ছিল ৫৪ শতাংশ বল দখল নিয়ে। আর জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তারা পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়ে ৭৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয় হয়ে আছে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জন্য। স্কালোনি দল ঘুরিয়ে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় একাদশে সুযোগ পাওয়া এই মিডফিল্ডার ম্যাচে ১৫৪টি সফল পাস সম্পন্ন করেন। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি পাস দেয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় এটি ষষ্ঠ সর্বোচ্চ সংখ্যা।
গ্রুপ পর্ব শেষে আর্জেন্টিনার সামনে এখন নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। দৌড়ানোর পরিসংখ্যানে কেপ ভার্দে রয়েছে ২৮তম স্থানে; তিন ম্যাচে তারা মোট ১১১.৭৩ কিলোমিটার দৌড়েছে। গ্রুপ পর্বে দলটি স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছে।
এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে প্যারাগুয়ে। গুস্তাভো আলফারোর দল ১১৪.৭৮ কিলোমিটার দৌড়ে সামগ্রিক তালিকায় রয়েছে ১৩তম স্থানে। ব্রাজিল রয়েছে ২১তম, উরুগুয়ে ২২তম, ইকুয়েডর ৪২তম এবং আর্জেন্টিনা ৪৪তম স্থানে।
কেএম